ধোয়ামোছার কাজে নিয়োজিতদের জন্য ত্বকের সুরক্ষা: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ধোয়ামোছার কাজে ত্বক সুরক্ষার উপায়

ধোয়ামোছার কাজে নিয়োজিতদের জন্য ত্বক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

যাঁরা নিয়মিত ধোয়ামোছা বা পানির কাজের সাথে জড়িত, তাঁদের ত্বক বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আসিফুজ্জামান, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান, এই বিষয়ে কিছু অত্যাবশ্যকীয় পরামর্শ দিয়েছেন।

ধোয়ামোছার সময় যা করবেন

প্রথমত, খুব গরম পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি ত্বককে অত্যধিক শুষ্ক করে ফেলে। বাসনকোসনের চর্বি দূর করতে অনেকে গরম পানি ব্যবহার করেন, কিন্তু কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই উত্তম।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে হালকা ক্ষারযুক্ত ও ময়েশ্চারযুক্ত মৃদু ধরনের সাবান বেছে নিন। অনেকেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান বা তরল, অ্যান্টিসেপটিক যেমন ডেটল, স্যাভলন ইত্যাদি ব্যবহার করেন, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বারবার সংস্পর্শে এলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, তাই ব্যবহার করলেও হাতে গ্লাভস পরুন বা সরাসরি হাতে লাগাবেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাজ শেষে হাত পরিষ্কারের সময় মৃদু ধরনের হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন এবং হাত ঘষা বা স্ক্রাব করা থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে রান্নাঘরে ধোয়ামোছার কাজ করার সময় কিচেন গ্লাভস ব্যবহার করুন, যা ত্বককে রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করবে।

ধোয়ামোছার পর যা করবেন

হাতের কাজ শেষ করে হাত ত্বক আর্দ্র থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত। যতবার হাতে সাবান পানি লাগবে, ততবারই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। যাঁরা নিয়মিত ধোয়ার কাজ করেন, তাঁদের জন্য লোশনের চেয়ে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ময়েশ্চারাইজার বেশি উপকারী, কারণ লোশনে পানি বেশি থাকে যা দ্রুত শুকিয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল, সিরামাইড ইত্যাদি উপকরণ সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা বিশেষভাবে উপকারী। সব কাজ শেষে হাত পরিষ্কার করে রাতে ঘুমানোর সময় পুরু ময়েশ্চারাইজার যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে যান। প্রয়োজনে হাতমোজা পরে নিতে পারেন, যাতে রাতে ত্বক শুকিয়ে না যায় এবং আর্দ্রতা বজায় থাকে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

বারবার সাবান পানি ব্যবহারের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে এবং জ্বালা করতে পারে। ফাটা জায়গায় জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশন হতে পারে। এ ছাড়া বারবার পানির সংস্পর্শে আসার কারণে আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। ডিটারজেন্ট ও সাবানের সংস্পর্শে আসার কারণে ইরিটেশন ও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, যা ছোট ছোট ফুসকুড়ি, লালচে ভাব ও একজিমার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাঁদের জন্য এসব সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে, তাই অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মো. আসিফুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন যে, নিয়মিত এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে ধোয়ামোছার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।