রংপুর বিভাগে হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ: রমেক হাসপাতালে ৪ শিশু ভর্তি
রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় রুবেলা ভাইরাস ও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই দিনে ৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা প্রদান করছে। আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর উল্লেখযোগ্য।
শিশুদের অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা
হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আয়েশা সুলতানা জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ২৩ মার্চ লালমনিরহাটের ৮ মাস বয়সী আমাতুল্লা জান্নাত ও ২৫ মার্চ দিনাজপুরের ৭ মাস বয়সি প্রজ্ঞা রায় ভর্তি হয়েছিলেন। তারা শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল, তবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ২ বছর বয়সী আরাফাত ও রংপুরের তাজহাটের ৯ মাস বয়সি সায়েম আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই চার শিশুকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আরাফাতের মা জয়নাফ আখতার জানান, ঈদের দিন থেকে বাচ্চার গায়ে র্যাশ উঠে, পরদিন তা বাড়ে এবং গলা ফুলে যায়। ডাক্তার টনসিল বলে ওষুধ দিলেও গাল ফুলে যায় এবং জ্বর আসা-যাওয়া করছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে।
সায়েমের নানা আইয়ুব আলী বলেন, দুই-তিন মাস আগে জ্বর হয়েছিল এবং ঘাড়ে র্যাশ দেখা গিয়েছিল। তিন দিন আগে আবার জ্বর ও র্যাশ দেখা দেয়, ফলে ক্লিনিক থেকে এনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিক্রিয়া ও পরিসংখ্যান
রংপুর জেলায় হামের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলে দাবি করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জেলা সুপারিনটেনডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল মালেক। তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আট উপজেলায় ১২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে।
রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বিভাগের আট জেলায় হামের সন্দেহভাজন ১১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল পোলিও-ইএস অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, এর মধ্যে ছয় শিশুর হাম এবং চার শিশুর রুবেলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন ঠাকুরগাঁওয়ের, বাকিরা কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুরের। রুবেলায় আক্রান্ত দুজন করে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানান, হাম প্রতিরোধে রমেকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বিশেষ কর্নার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিভাগে এমআর টিকার কোনো সংকট নেই এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা অবলম্বন করে চলছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।



