রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আহত
রাজধানী ঢাকায় সোমবার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাগুলো বিকেল ও সন্ধ্যায় ঘটে, যা শহরের যানজট ও নিরাপত্তা সংকটকে আবারও উসকে দিয়েছে।
সায়েদাবাদে বাসের ধাক্কায় নারী নিহত
সন্ধ্যায় সায়েদাবাদের করাতিটোলা রেলগেট এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী তাসলিমা আক্তার (৩৪) নিহত হয়েছেন। নিহত তাসলিমা বংশালের মাহুতটুলি এলাকার জয়নাল মাদবরের মেয়ে ছিলেন। তিনি স্বামী রশিদ আহমেদ ও সন্তানকে নিয়ে দক্ষিণ সায়েদাবাদে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাসলিমা বাবার বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে করাতিটোলা রেলগেট এলাকায় ‘তিসা পরিবহন’–এর একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, যেখানে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন বাসটি আটকে রেখেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
বঙ্গভবন এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা আহত
এর আগে বিকেলে বঙ্গভবনের সামনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা খোশনুর আলম সুজন (৩২)। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এবং পরিবার নিয়ে বনশ্রীতে থাকেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর মাথা ও বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং বাঁ হাত ভেঙে যায়।
পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনেরা তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) নিয়ে গেছেন।
এই দুর্ঘটনাগুলো রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তার গুরুতর সংকটকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করলে এমন ঘটনা বাড়তে পারে।



