হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জোরদার পদক্ষেপ
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
টিকা আসার সময়সীমা ও টিকাদান কর্মসূচি
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “শিগগিরই টিকা দেশে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যে অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টিকা হাতে পাওয়া মাত্র সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হবে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রস্তুতি ও সচেতনতা কার্যক্রম
হামসহ শিশুরোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের উদ্যোগে ২০টি ভেন্টিলেশন সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৮ সালের পর দেশে হাম প্রতিরোধে বড় ধরনের কোনো সচেতনতা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় জনগণকে সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে নতুন করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংক্রামক রোগ মোকাবিলা, নার্সিং সেবার উন্নয়ন এবং আইসিইউ সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার রূপরেখা আগামী মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে টিকার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এখন ক্রয় কমিটির অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিক অর্ডার দেওয়া হবে এবং দ্রুত টিকা দেশে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, “টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যা হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।” এই পদক্ষেপগুলি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।



