রংপুরে হাম আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে চিকিৎসা, বিভাগে সন্দেহভাজন ১১৬ নমুনা সংগ্রহ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী সায়েম আহমেদসহ চার শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে আরও দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে রমেকে মোট চার শিশু হামে আক্রান্ত হিসেবে আইসোলেশনে চিকিৎসা পাচ্ছেন।
শিশুদের ভর্তি ও চিকিৎসার বিবরণ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আয়েশা সুলতানা প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ লালমনিরহাটের ৮ মাস বয়সী আমাতুল্লা জান্নাত এবং ২৫ মার্চ দিনাজপুরের ৭ মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায় ভর্তি হন। গত কয়েক দিন তারা শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও গতকাল থেকে তাদের আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, গতকাল সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ২ বছর বয়সী আরাফাত এবং রংপুরের তাজহাটের ৯ মাস বয়সী সায়েম আহমেদ ভর্তি করা হয়। তাদেরও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আরাফাতের মা জয়নাফ আখতার জানান, ঈদের দিন থেকে তার সন্তানের গায়ে রেশ ওঠে এবং গলা ফুলে যায়। ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে টনসিল বলে উল্লেখ করলেও পরে ভাইরাসের কথা বলেছেন।
হামের প্রাদুর্ভাব ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় দাবি করেছে যে জেলায় হামের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জেলা সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল মালেক জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আট উপজেলায় ১২ জন সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত চারজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
তবে রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে বিভাগের আট জেলায় হামে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ১১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ছয় শিশু এবং রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত চার শিশু শনাক্ত হয়েছে।
হাম প্রতিরোধে ব্যবস্থা
রংপুর বিভাগীয় পরিচালক গাওসুল আজিম চৌধুরী জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধে সতর্কতা হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হামের কর্নার তৈরি করা হয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া, রংপুর জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতেও হামের বিশেষ কর্নার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে রংপুর বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগপ্রতিরোধে এমআর টিকার কোনো সংকট নেই।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে হামের বিস্তার রোধ করা যায় এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়।



