মশা নিয়ন্ত্রণে সেরাদের পুরস্কার ঘোষণা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের
রাজধানীসহ সারাদেশে মশার উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী কর্মীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
গুলশানে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা
রাজধানীর গুলশান নগর ভবনে সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে সমন্বিত বাহক ব্যবস্থাপনা (আইভিএম) ও মৌলিক কীট নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতি ও পরিধি আরও বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যাদের পারফরম্যান্স ভালো থাকবে, তাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।"
ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সড়কে হাঁটার সময় মানুষ যেন আমাদের দোষারোপ না করতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।" মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হওয়ায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, "আমরা শতভাগ সফল না হলেও আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে।" তিনি জানান, আগামীতে মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনেকাংশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর করবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্ক
তিনি আরও বলেন, "মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ডিএনসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করছে।" প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, "প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মশক নিয়ন্ত্রণ কৌশল সম্পর্কে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।" তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৩টি ‘সি’ বাস্তবায়নের তাগিদ
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, "৩টি ‘সি’ (কমিটমেন্ট, কোলাবোরেশন এবং কো-অপারেশন) বাস্তবায়ন করা গেলে কার্যকরভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।" এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি মত দেন।
এই প্রশিক্ষণে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজারসহ মোট ৮২ জন অংশ নিয়েছেন। মশা নিয়ন্ত্রণে এই সমন্বিত উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।



