ঈদে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত, আহত ১২৮৮: যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য
ঈদে সড়ক-নৌ-রেল দুর্ঘটনায় ৩৯৪ নিহত, আহত ১২৮৮

ঈদ ভ্রমণে সড়ক-নৌ-রেলপথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৩৯৪, আহত ১২৮৮

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভ্রমণকালে মোট ৩৯৪ জন নিহত এবং ১,২৮৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু

সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঈদ ভ্রমণকালীন সময়ে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন।

নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনা

এছাড়াও, আটটি নৌ দুর্ঘটনায় আটজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, ২৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যানবাহন অনুযায়ী দুর্ঘটনার হার

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বিশ্লেষণ অনুসারে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ সংখ্যক দুর্ঘটনায় জড়িত, যা মোট দুর্ঘটনার ২৭.১৬%। অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে:

  • ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ১৭.৭৩% দুর্ঘটনার জন্য দায়ী
  • বাস ১৬.২২% দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে
  • বৈদ্যুতিক রিকশা ১৫.২৮% দুর্ঘটনায় জড়িত
  • কার ও মাইক্রোবাস ৮.৪৯% দুর্ঘটনার কারণ
  • নসিমন-করিমন ৭.৭৩% দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে
  • সিএনজি অটোরিকশা ৭.৩৫% দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে

গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৮.২৬% এবং আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.০৫%।

দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ

দীর্ঘ ছুটির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যাত্রী কল্যাণ সমিতি উল্লেখ করেছে যে ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার হয়নি। হাইওয়ে ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল রেল অবকাঠামো, গণসচেতনতার অভাব এবং গণপরিবহনের স্বল্পতা দুর্ঘটনা ও যাত্রী দুর্দশা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুপারিশ ও দাবি

সংগঠনটি নতুন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও ড্রাইভারদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ যানবাহন প্রবর্তন এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক, নৌ ও রেল পরিবহনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, "ঈদের মতো জাতীয় উৎসবে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার, পরিবহন মালিক ও যাত্রীসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।"