হামের টিকা বন্ধ ৮ বছর: সরকারের ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ও বিশেষ প্রস্তুতি
৮ বছর হামের টিকা বন্ধ, সরকারের ৬০৪ কোটি বরাদ্দ

হামের টিকাদান বন্ধ ৮ বছর: সরকারের জরুরি পদক্ষেপ ও ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত আট বছর ধরে দেশে হামের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি, যা বর্তমান সংকটের একটি প্রধান কারণ।

টিকাদান কর্মসূচির ইতিহাস ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর কোনো সরকারই ভ্যাকসিন দেয়নি। আমরা ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পারচেজ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।' সাধারণত, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া, বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

টিকাদান কর্মসূচির কারণে দেশে একসময় হামের প্রকোপ কমে এলেও চলতি বছর তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি এলাকাতেও রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি, যাদের বড় অংশই হাম আক্রান্ত শিশু।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ

হামের রোগীদের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ডিএনসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ড, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশুমৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাঁচটি ভেন্টিলেটর দান পাওয়া গেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব ভেন্টিলেটর দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানো হবে। এছাড়া, দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এসব সরঞ্জাম হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা

সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে, যা শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টিকাদানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রচারণা চালানো হবে। হামের লক্ষণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, যাতে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।

এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত রাখা এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বরাদ্দকৃত অর্থ ও সরঞ্জামের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।