চট্টগ্রামে মশার উৎপাত: সিটি করপোরেশনের ওষুধ ছিটানো সত্ত্বেও বাড়ছে যন্ত্রণা
চট্টগ্রামে মশার উৎপাত: ওষুধ ছিটানো সত্ত্বেও বাড়ছে যন্ত্রণা

চট্টগ্রাম নগরে মশার উৎপাত: বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও সিটি করপোরেশনের চেষ্টা

চট্টগ্রাম মহানগরের নন্দনকানন ও রহমাননগরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা মারাত্মক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সিটি করপোরেশন নিয়মিত ওষুধ ছিটালেও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

রহমাননগর এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমাইয়া উসরাতের মতো অনেকেই মশার কামড়ে রাতের ঘুম হারাচ্ছেন। তিনি বলেন, "শীতকালে দরজা-জানালা বন্ধ রাখলে কিছুটা স্বস্তি মিলত, কিন্তু এখন গরমকাল আসছে। বাতাসের জন্য জানালা খুলতে হবে, তখন মশার উৎপাত কীভাবে সহ্য করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।" নগরের অধিকাংশ বাসিন্দা একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, যেখানে আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে অফিসপাড়া ও বিপণিবিতানেও মশার উপদ্রব লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড ও লার্ভিসাইড ব্যবহার করছে, যার মধ্যে ডেল্টামেথ্রিন নামক কীটনাশক প্রধান। তবে ভবিষ্যতে ম্যালাথিয়ন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছর থেকে আধুনিক প্রযুক্তির বিটিআই (বাসিলাম থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে, যা মশার লার্ভা ধ্বংস করে। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী দাবি করেন, "আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, কিন্তু মশা ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। কোনো ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণা ও জরিপের অভাব

মশার ঘনত্ব বা হটস্পট নির্ধারণে সিটি করপোরেশনের নতুন কোনো জরিপ নেই। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় মশকনিধন কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছিল, কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো গবেষণা হয়নি। গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, "দীর্ঘমেয়াদী রাসায়নিক ব্যবহারে মশার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। হারবাল ওষুধ ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা মানা হয়নি।" রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর গবেষণা প্রতিবেদনও সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়নি, যা কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে সাধারণত কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশা দেখা যায়, যার মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তার বেশি। এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়, তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম নগরে মশার উৎপাত কমাতে সিটি করপোরেশন গত ১৪ মার্চ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে এবং ৩০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ কেনার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বাসিন্দাদের মতে, তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে নগরবাসী স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।