ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ধানখেতে নবজাতক উদ্ধার, হাসপাতালে সুস্থ অবস্থায়
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ধানখেত থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে উপজেলার খৈরাটি গ্রামের ধানখেত থেকে নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
কান্নার শব্দ শুনে উদ্ধার শুরু
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সড়কের পাশের ধানখেত থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পথচারী। তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানালে স্থানীয় ইজিবাইক চালক হালিম মিয়া নবজাতককে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তিনি ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নবজাতক মেয়েটিকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে ভর্তি আছে এবং সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
উদ্ধারকারীর বর্ণনা
নবজাতকটিকে প্রথমে উদ্ধার করা হালিম মিয়া বলেন, ‘ধানখেতে পড়ে থাকা অবস্থায় নবজাতকটি কান্না করছিল। এক পথচারী বিষয়টি আমাকে জানালে আমি নবজাতককে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে নবজাতককে নতুন কাপড় পরিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দিই।’
স্থানীয় আবু হুযাইফা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমাকে হাসপাতালে পাঠান। খোঁজখবর নিয়েছি। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ আছে। আমরা চাই নবজাতককে এমন কারও কাছে দেওয়া হোক, যার কাছে সে সুস্থভাবে বেড়ে উঠে আলোকিত মানুষ হতে পারবে।’
হাসপাতালে চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা সনজিৎ মোদক বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর নবজাতককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ আছে। আমাদের ধারণা, নবজাতককে যখন প্রথম উদ্ধার করা হয়েছে এর তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে সে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।’
উদ্ধারের পর নবজাতকটিকে দেখতে হাসপাতালে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা চলার সময় নবজাতককে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নবজাতকের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম প্রশংসনীয়। নবজাতকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছেন, যাতে সে একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
