সংসদের প্রথম অধিবেশনে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাশ হবে
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সোমবার এক গোলটেবিল বৈঠকে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাশ করা হবে। তিনি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং আইনটির বাস্তবায়নে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এই আশ্বাস দেন। তিনি একই সঙ্গে বাস্তবায়ন মনিটরিং সেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন, যা আইনটির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
বক্তাদের মতামত ও উদ্বেগ
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের বিকল্প নেই। জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি যথাসময়ে আইন হিসেবে পাশের দাবি জানাচ্ছি।’ চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বারোপ করে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে এবং এটা চলমান রাখতে হবে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উচিত হবে অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাশ করা।
তামাকের ক্ষয়ক্ষতি: উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়:
- দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (৩৫ শতাংশ) তামাক ব্যবহার করেন।
- তামাক প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮টি প্রাণ কেড়ে নেয় এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে।
- তামাকের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন হিসেবে গৃহীত না হলে তামাকের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বাড়তেই থাকবে।
ক্যানসার ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়
সেমিনারে তামাক ব্যবহারের ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। এই পর্বে তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা শোনা যায়, যা আইনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
অন্যান্য বক্তারা
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করেন আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।
এই গোলটেবিল বৈঠকটি তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে আইন পাশের দিকে অগ্রগতি নির্দেশ করে।



