স্থূলতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ৬টি সহজ অভ্যাসের পরামর্শ
স্থূলতা প্রতিরোধে ৬টি সহজ অভ্যাসের পরামর্শ

স্থূলতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ৬টি সহজ অভ্যাসের পরামর্শ

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি স্থূলতা প্রতিরোধে প্রতিদিনের জীবনে ৬টি সহজ অভ্যাস চর্চার পরামর্শ দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

বিএমআই গণনা পদ্ধতি ও এশীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা

আপনার ওজন ঠিক আছে কি না তা জানতে একটি ওজন মাপার যন্ত্র ও একটি ফিতা ব্যবহার করতে পারেন। নিজের ওজনকে কিলোগ্রামে উচ্চতার বর্গ মিটারে ভাগ করলে বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই পাওয়া যায়। স্মার্টফোনে বিএমআই ক্যালকুলেটর ডাউনলোড করেও এই হিসাব করা সম্ভব।

বিএমআই ২৫ বা তার বেশি হলে ওভারওয়েট বা ওজনাধিক্য ধরা হয়। বিএমআই ৩০-এর বেশি হলে স্থূলতা বা ওবেসিটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিএমআই ৪০-এর বেশি হলে তা গুরুতর অবস্থা বোঝায়।

এশীয়দের ক্ষেত্রে এই সূচক আরও কমিয়ে ধরা হয়। এশীয়দের জন্য বিএমআই ২৩ বা তার বেশি হলে ওভারওয়েট এবং ২৭ বা তার বেশি হলে স্থূলতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

স্থূলতা প্রতিরোধে ৬টি কার্যকর অভ্যাস

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি স্থূলতা প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ৬টি অভ্যাস চর্চার পরামর্শ দিয়েছে:

  1. শূন্য চিনি বা চিনিযুক্ত পানীয়: চিনিযুক্ত পানীয় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন।
  2. এক ঘণ্টা ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত: প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা শারীরিক ব্যায়াম করুন।
  3. দুই ঘণ্টার কম স্ক্রিন টাইম: মোবাইল, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে সময় সীমিত রাখুন।
  4. তিন বেলা পরিমিত খাবার: সকাল, দুপুর ও রাতে পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।
  5. চারটি মূল ভিত্তির চিকিৎসা: চিকিৎসার চারটি মূল ভিত্তি মেনে চলুন।
  6. পাঁচবার নানা ধরনের ফল ও সবজি গ্রহণ: প্রতিদিন পাঁচবার বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি খান।

এছাড়া কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুমেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থূলতা একটি রোগ, কেবল অবস্থা নয়

মনে রাখতে হবে, স্থূলতা একটি রোগ, কেবল একটি অবস্থা নয়। এর সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে চার শতাধিক রোগবালাইয়ের সঙ্গে স্থূলতা সম্পর্কিত।

স্থূলতা চিকিৎসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাজারে নানা টোটকা, হারবাল বা ভ্রান্ত ডায়েট পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এগুলোর কোনোটিই বিজ্ঞানসম্মত নয়; বরং মাত্র ৬টি অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে আপনি স্থূলতাকে ঠেকাতে পারেন।

তাই এই অভ্যাস চর্চা করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। স্থূলতা প্রতিরোধে সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাস চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।