ওজন কমানোর ভুল ধারণা: বিজ্ঞান যা বলে, টোটকা নয় সঠিক পথ
ওজন কমানোর ভুল ধারণা: বিজ্ঞান যা বলে

ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় ভুল ধারণা: বিজ্ঞানের আলোকে সত্য জানুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ভিডিও, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওজন কমানোর নানা তরিকার উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে আমরা প্রতারিত হচ্ছি না তো? ওজন কমানোর উপায় নিয়ে আমাদের নানা অবৈজ্ঞানিক ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

জিনগতভাবে মোটা হওয়া: কিছু করার নেই?

এটা ঠিক যে জিনগত কারণ আমাদের ওজনের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলে, কিন্তু ওজন বৃদ্ধির জন্য পরিবেশগত কারণ ও জীবনযাপন প্রণালি বেশি দায়ী। পারিবারিকভাবে মোটা হলেও নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনচর্চার মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব। তবে কিছু বিরল জিনগত রোগ, যেমন প্রেডার উইল সিনড্রোম, গুরুতর স্থূলতা সৃষ্টি করতে পারে।

না খেয়ে থাকা: কার্যকর পদ্ধতি নয়

ওজন কমানোর জন্য ‘না খেয়ে’ থাকা কোনো কার্যকর পদ্ধতি নয়। অনেকেই সারা দিন কিছু খান না, কিন্তু যখন খান, তখন বাছবিচার থাকে না। বরং ওজন কমাতে সারা দিনে বেশ কয়েকবার খেতে হবে। দরকার কমপক্ষে ৬টি ছোট ছোট ও কম ক্যালরিযুক্ত, সুষম খাবার। কোনো বেলাই খাবার এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, বিশেষ করে সকালের নাশতা। এক বেলা খাবার বাদ দিলে পরের বেলা বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই বয়স, ওজন ও কাজ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ক্যালরির খাবারের তালিকা করে নিন।

মেটাবলিজম স্লো: ওজন কমে না?

মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া একটি চলমান বিষয়, যা ক্যালরি গ্রহণ ও ক্ষয়ের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। মেটাবলিজম বাড়াতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। ক্যালরি গ্রহণ হতে হবে স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত, অপর দিকে ক্যালরি ক্ষয় বাড়াতে হবে। থাইরয়েড হরমোন ঘাটতির মতো রোগে মেটাবলিজম আক্রান্ত হতে পারে, তাই এ ধরনের রোগের চিকিৎসা জরুরি। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলেও সঠিক নিয়ন্ত্রণে ওজন কমানো সম্ভব।

টোটকা ও হার্বাল: নিরাপদ নয়

ওজন কমানোর ওষুধের চেয়ে টোটকা ও হার্বাল নিরাপদ—এ ধারণা ভুল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওজন কমানোর ওষুধের উপকারিতা ও অপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, যা টোটকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। টোটকা বা প্রাকৃতিক ওষুধের প্রতিক্রিয়া ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষয়ে বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই। গ্রিন টি, হার্বাল টি, ইসবগুলের ভুষি, চিয়া সিড, অ্যালোভেরা বা নানা অর্গানিক ওষুধ ওজন কমাতে যথেষ্ট কার্যকর নয়। এগুলো মূলত পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে পেট ভরা অনুভূতি বাড়ায় বা ডিটক্স হিসেবে কিছুটা কাজ করে, কিন্তু সরাসরি ওজন কমায় এমন প্রমাণ নেই।

ওজন কমালে চেহারা ভেঙে যায়?

ওজন কমানোর চেষ্টায় চেহারা ও চুল–ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—এটা হয় যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ ও ভিটামিন মিনারেল না খেলে। ওজন কমানোর সময় লক্ষ রাখতে হবে শরীরের চর্বি ভাঙতে হবে, পেশি ক্ষয় যেন না হয়। সে জন্য যথেষ্ট আমিষ, যেমন দুধ, ডিম, দই, বাদাম, মাছ ও চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। চুল পড়া রোধে ও ত্বক ভালো রাখতে যথেষ্ট ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার, যেমন ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস ওজন কমানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পেশি ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করবে।

ওজন কমানোর সঠিক পথ হলো বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, টোটকা বা ভ্রান্ত ধারণার উপর নির্ভর না করা। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।