রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ চারজন দগ্ধ, অবস্থা আশঙ্কাজনক
গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ চারজন দগ্ধ, অবস্থা আশঙ্কাজনক

রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ চারজন দগ্ধ, অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাজধানীর হাজারীবাগের একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় একটি শিশুও আক্রান্ত হয়েছে, যা পরিবারটির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

দুর্ঘটনার সময় ও স্থান

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে হাজারীবাগের পূর্ব রায়েরবাজার এলাকায় এ ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধরা হলেন নশেখ রোমান (৩৫ বছর), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২ বছর), তাদের ছেলে রুহান (৩ বছর) এবং শ্যালক অপু (২৩ বছর)।

দুর্ঘটনার বিবরণ

দগ্ধ রোমানের ভাই মো. মামুনের বর্ণনা অনুযায়ী, হাজারীবাগ থানাধীন পূর্ব রায়েরবাজার এলাকার জাহানারা ভিলীর ৬ তলা ভবনের নিচ তলায় রোমানের পরিবারটি বসবাস করতো। প্রতিদিনের মতো সেহরির জন্য রান্না করতে সোমবার ভোরে উঠেন পিংকি আক্তার। তিনি গ্যাসের চুলা জ্বালানোর জন্য ম্যাচ জ্বালাতেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে বাসাটিতে থাকা সবাই তীব্রভাবে দগ্ধ হন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

উদ্ধার ও চিকিৎসা

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, "দগ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের শরীরের ৭৫ শতাংশ, রুহানের শরীরের ৩৫ শতাংশ এবং অপুর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।" চিকিৎসকরা তাদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে পুড়ে যাওয়ার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ হওয়ায় অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।

পরিবার সম্পর্কে তথ্য

দগ্ধ রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন। এই দুর্ঘটনা পরিবারটির জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে, এবং তারা এখন চিকিৎসার জন্য সংগ্রাম করছেন।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা

এই ঘটনা গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, গ্যাসের লাইন ও সরঞ্জাম নিয়মিত চেক করা উচিত এবং বিস্ফোরণ রোধে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। গৃহস্থালি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের সজাগ থাকা জরুরি