কুমিল্লায় সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু
সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

কুমিল্লায় সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

কুমিল্লার লালমাইয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বাগমারা দুধ বাজারস্থ বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মহিউদ্দিন (২৮) বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং একজন জামায়াত কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ঘনিষ্ঠরা জানান, মহিউদ্দিন সকালে নিজের অটোরিকশা চালিয়ে বাগমারা বাজারে বাজার করতে যান। সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টায় তিনি রেললাইনে গিয়ে একটি সেলফি তুলেন। সেখানে দাঁড়িয়েই সেলফিটি নিজের ‘ইসলামি শান্তি’ নামে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লেখেন ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল’। মুহূর্তেই ঢাকাগামী একটি ট্রেন এলে তিনি সরে পড়ার আগেই কাটা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তার ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, শেষ পোস্টের কিছুক্ষণ আগে তিনি অন্য আরেকটি পোস্টে লেখেন ‘আমরা ক্ষমতার জন্য জামায়াতে ইসলামি করি না। হেরে যাওয়ার পরও শিবির, আলহামদুলিল্লাহ।’ এই পোস্টগুলো তার সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপের অংশ ছিল, যা দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টায় লাকসাম স্টেশন অতিক্রম করে। সম্ভবত ওই ট্রেনে কাটা পড়ে বাগমারা বাজারে মহিউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন, কিন্তু তার আগেই নিহতের পরিবার লাশ বাড়ি নিয়ে গেছেন।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা সচেতনতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেললাইনের মতো বিপজ্জনক স্থানে সেলফি তোলা বা ফটোশুট করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

মহিউদ্দিনের মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। তার পরিবার ও বন্ধুরা এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এই ঘটনা সেলফি তোলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।