পাহাড়ে শ্বাসকষ্টের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও প্রতিকার
পাহাড়ে শ্বাসকষ্টের কারণ ও প্রতিকার

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে বা উঁচু এলাকায় কাজ করতে গিয়ে অনেকেই হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করেন। সমতলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া গেলেও কয়েক হাজার মিটার ওপরে উঠতেই কেন এমন সমস্যা হয়—এর উত্তর লুকিয়ে আছে বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়।

বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের ভূমিকা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব তত কমে। অর্থাৎ বাতাসে গ্যাসের অণুর সংখ্যা কম থাকে। এর ফলে বায়ুচাপ কমে যায়। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় একই (প্রায় ২১ শতাংশ) থাকলেও এর আংশিক চাপ কমে যাওয়াই মূল সমস্যা। এতে প্রতিটি শ্বাসে শরীরে ঢোকা অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।

ফুসফুসে অক্সিজেন বিনিময়

ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় হয় চাপের পার্থক্যের ভিত্তিতে। কিন্তু উচ্চতায় অক্সিজেনের আংশিক চাপ কম থাকায় এই বিনিময় বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মেশে না। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোক্সিয়া—অর্থাৎ শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

অক্সিজেন কমে গেলে শরীর তাৎক্ষণিকভাবে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখায়। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। তবুও অনেক সময় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা দেয়। কারণ, মস্তিষ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।

উচ্চতাজনিত অসুস্থতা

দ্রুত উচ্চতায় উঠলে বা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে অভ্যস্ত না হলে দেখা দিতে পারে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা। সাধারণভাবে মাথাব্যথা, বমিভাব, ঘুম ঘুম ভাব—এসব উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসফুস বা মস্তিষ্কে জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

শরীরের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া

তবে শরীর পুরোপুরি অসহায় নয়। কিছুদিন উচ্চতায় থাকলে শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রক্তে লোহিত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে, যাতে কম অক্সিজেন থেকেও বেশি কার্যকারিতা পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যাক্লাইমাটাইজেশন

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিকারের উপায়

সব মিলিয়ে, উঁচুতে শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ হলো কম বায়ুচাপ ও অক্সিজেনের আংশিক চাপ কমে যাওয়া। তাই হঠাৎ দ্রুত ওপরে না উঠে ধীরে ধীরে ওঠা এবং শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া—এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।