২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬৬
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১০ শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি এ বছর হামে মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এক দিনে ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত এক দিনে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১৬৬ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসলেও শিশুমৃত্যু আমাদের দেখতে হবে আরও বেশকিছু দিন।

মৃত্যু ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে এক জনের মৃত্যু হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এ নিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ৫০ জনে এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৪ জনে। এনিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হলো ২৯৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ জন। এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৩ জন। এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৮১৬ জন।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের শ্বাসকষ্ট হলেই যে আইসিইউতে যেতে হবে, বিষয়টা এমন নয়। আইসিইউ ছাড়া সিলিন্ডার দিয়েই অক্সিজেন দেওয়া যেতে পারে। আর অক্সিজেন সিলিন্ডার তো বহু হাসপাতালে আছে। কিন্তু চিকিৎসক যখন বলে আইসিইউ লাগবে, আর হাসপাতাল থেকে যখন বলে আইসিইউ নাই, তখন রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে আইসিইউ এর জন্যে যাচ্ছে। অক্সিজেন দিয়ে যদি আমরা সামাল দিতে পারতাম, তাহলে এই দৌড়াদৌড়িটা করতে হতো না। এখানে আমাদের উচিত ছিল স্থানীয় চিকিৎসকদের যুক্ত করা। তাহলে পাশের ফার্মেসিতে যে ডাক্তার বসে, সে যদি ঐ পরিবারকে পরামর্শ দেয়, তাহলে হয়তো ঐ পরিবারটাকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হতো না। সরকারের পাশাপাশি জেনারেল প্র্যাকটিশনাল, প্রাইভেট প্র্যাকটিশনালদের সম্পৃক্ত করতে পারলে হামের এই অবস্থাটা আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রীর বক্তব্য ও টিকা প্রসঙ্গ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগির কভার করে ফেলব। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি। বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সারা দেশে টিকার সরবরাহও ঠিক আছে।' গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জনস্বাস্থ্যবিদের উদ্বেগ

হামের এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফায়সাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা কোভিডের সময় থেকে কেবল কোভিডের দিকেই নজর দিয়েছি, অন্য টিকাগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেই নাই, যার ফলে হামের অবস্থা আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্যের কাজের জন্যে আমাদের সবসময় সঠিক ডেটা দরকার। কিন্তু সেই ডেটাতেই যদি গলদ হয়, ভুল থাকে, তাহলে তো প্ল্যান ঠিক হয় না। সেই জন্যই সমস্যাটা অনেক দিন থেকে শুরু হয়ে আজকে আউটব্রেক হয়েছে। গত ১০ বছরে যদি আমরা ডেটা ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারতাম, তাহলে আজকের এই মহামারি দেখতে হতো না।

শিশুমৃত্যুর কারণ ও ভবিষ্যৎ

হামে শিশুমৃত্যুর বিষয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, হামের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু পাতলা পায়খানা বা নিউমোনিয়া হয় না। হাম শুরুর চার-পাঁচ দিন পর হয়তো পাতলা পায়খানা তারপর হয়তো নিউমোনিয়া হচ্ছে। কিন্তু হাম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি শিশুটি চিকিৎসা পেত; তাহলে হামে মৃত্যু হতো না। শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভুগতে ভুগতে এক পর্যায়ে নিউমোনিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। হামে মৃত্যুর এই হারটা আরও বেশকিছু দিন আমাদের দেখতে হবে। নতুন রোগী হয়তো আমরা দেখতে পাব না, তবে শিশুমৃত্যু দেখতে হবে।