জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের ডোবায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভেসে থাকার যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা কেবল দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। যেখানে দেশের চরাঞ্চল ও প্রান্তিক মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো, সেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এভাবে ডোবায় ফেলে দেওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপের এই স্তূপ একটি বড় প্রশ্ন সামনে দাঁড় করিয়েছে—সরকারি সম্পদ কেন এবং কার স্বার্থে এভাবে নষ্ট করা হলো? স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁরা বলছেন, ক্লিনিকটি প্রায়ই বন্ধ থাকে এবং রোগীরা ওষুধ চাইলে ‘নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, বিপুল পরিমাণ ওষুধ বিলি না করে স্টোরে জমিয়ে রাখা হয়েছিল, যা সম্ভবত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর জনসমক্ষে না এনে গোপনে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ও দায়িত্ব
যদি ওষুধগুলোর মেয়াদ থেকে থাকে, তবে তা সাধারণ মানুষকে না দিয়ে ফেলে দেওয়া চরম অপরাধ। আর যদি মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন জাগে—ওষুধগুলো যথাসময়ে কেন বিতরণ করা হলো না? সরকারি ব্যবস্থাপনায় ওষুধের প্রতিটি পাতার হিসাব থাকার কথা। মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তা নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তদন্তের প্রয়োজনীয়তা
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে। আমরা আশা করি, এই তদন্ত কেবল দায়সারা গোছের কোনো দাপ্তরিক প্রক্রিয়া হবে না। ওই ক্লিনিকে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের দোহাই দিয়ে এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
সরকারি উদ্যোগ ও দায়িত্বহীনতা
কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রীর একটি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প, যা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি। কিন্তু কিছু অসাধু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মীর কারণে এই মহৎ উদ্যোগের সুফল ব্যাহত হচ্ছে। জামালপুরের এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, বরং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান অব্যবস্থাপনার একটি প্রতিচ্ছবি।
প্রস্তাবনা
আমরা চাই, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের মজুত ও বিতরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। সরকারি ওষুধ সাধারণ মানুষের আমানত; সেই আমানতের এমন অমর্যাদা কোনোভাবেই কাম্য নয়।



