বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে: ঘরের ভেতরেও গোসল ও থালা ধোয়া বিপজ্জনক
বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে: ঘরের ভেতরেও বিপজ্জনক গোসল ও থালা ধোয়া

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় কাজ করার সময় এবং ঝড়ের মৌসুমে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বারবার সামনে আসছে।

বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরেও সতর্কতা প্রয়োজন

আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ। তবে ঘরের ভেতরেও কিছু কাজ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুৎ পরিবাহী উপাদানের সংস্পর্শে থাকা অবস্থায়।

বজ্রপাত হলো মেঘ ও ভূমির মধ্যে সঞ্চিত শক্তিশালী বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। এই বিদ্যুৎ যখন মাটিতে আঘাত করে, তখন তা আশপাশের পরিবাহী পথে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পানি, ধাতব পাইপ বা বৈদ্যুতিক সংযোগ এই বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই বজ্রপাতের সময় শুধু খোলা মাঠ নয়, ঘরের ভেতরেও কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা প্রয়োজন হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘরে গোসল করা কি নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত চলাকালে গোসল করা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কারণ, অনেক বাড়িতেই পানির পাইপ ধাতব বা আংশিক পরিবাহী উপাদানে তৈরি, যা বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে পারে। যদিও এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল, তবুও কাছাকাছি বজ্রপাত হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝড়-বজ্রের সময় গোসল কিছু সময়ের জন্য এড়িয়ে চলা নিরাপদ।

থালাবাসন ধোয়ার সময় ঝুঁকি কোথায়?

একই কারণে থালাবাসন ধোয়ার সময়ও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরের সিঙ্ক সাধারণত পানির পাইপের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে ধাতব কাঠামোর মাধ্যমে মাটির সঙ্গে সংযুক্ত। বজ্রপাত হলে এই পরিবাহী পথ দিয়েও বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, বজ্রপাত চলাকালে দীর্ঘ সময় পানির সংস্পর্শে থাকা কাজগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘরের ভেতরে কী করা উচিত?

বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও জানালা, বারান্দা, বৈদ্যুতিক তারযুক্ত যন্ত্রপাতি এবং পানির সরাসরি ব্যবহার থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে মোবাইল চার্জ দেওয়া, তারযুক্ত ফোন ব্যবহার বা বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনের বাস্তবতা

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতে মৃত্যুর একটি বড় কারণ হলো সচেতনতার অভাব। অনেকেই ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় কাজ চালিয়ে যান বা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেরি করেন, ফলে আকস্মিক বজ্রপাত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব কিছু ক্ষেত্রে বাড়ছে বলেও পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

শেষ কথা

বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা। ঘরের ভেতরে থাকলেও পানি ও বিদ্যুৎ পরিবাহী উপাদান থেকে দূরে থাকা জরুরি।