এলজিআরডির অব্যবহৃত ভবন স্বাস্থ্য খাতে: প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার শহরাঞ্চলে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা প্রায় ২০০টি ভবন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবনগুলোকে মাতৃসদন ক্লিনিকসহ শিশু ও নারীদের চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
আজ বুধবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। শওকতুল ইসলামের প্রশ্নটি ছিলো- "আরবান এলাকায় অনেক নতুন ভবন ব্যবহার হয় না। এগুলি স্বাস্থ্য সেবা খাতে নিয়ে ভবনগুলো ব্যবহারের উদ্যোগ নিবেন কিনা?"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরে বলেন, "স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ২০০ এর মতো ভবন ছিল, যেগুলোর কোনো ব্যবহার ছিল না। কোনোটি পাঁচতলা, কোনোটি আটতলা। বর্তমান সরকার কিছু দিন আগে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এগুলো আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিয়েছি।"
হস্তান্তর ও উন্নয়নের সময়সীমা
প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন যে চলতি মাসের মধ্যেই এই প্রায় ২০০টি বিল্ডিং স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর খুব দ্রুতই আগামী দুই মাসের মধ্যে এই ভবনগুলোকে ছোট ছোট মাতৃসদন ক্লিনিকসহ শিশু এবং নারীদের চিকিৎসার জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবনগুলোর বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিভিন্ন উচ্চতার ভবন (পাঁচতলা থেকে আটতলা পর্যন্ত)
- শহরাঞ্চলে অবস্থিত অব্যবহৃত স্থাপনা
- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা সম্পদ
এগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন অব্যবহৃত সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে তেমনই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়াচ্ছে।
এই উদ্যোগটি সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং নাগরিকসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।



