স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার সংসদে বলেছেন, সরকার দ্রুততম সময়ে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে এবং দেশে রেবিস প্রতিরোধী টিকার কোনও ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী
জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ সময় সাংসদদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা।
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া
মন্ত্রী জানান, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪৫০ জন সহকারী সার্জন, ৪৬তম বিসিএসে ১,৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএসে ১,৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএসে ৬৫০ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের কাজও এগিয়ে চলছে।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যত দ্রুত সম্ভব ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যাতে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ করা যায়।
গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন
গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্মরণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এখন সব ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
রেবিস ভ্যাক্সিনের পর্যাপ্ত মজুদ
রেবিস টিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে সারা দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল, যা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজের সমতুল্য, সারা দেশে বিতরণ করা হয়েছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
চার স্তরের মজুদ ব্যবস্থাপনা
মন্ত্রী সরকারের মজুদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো বর্ণনা করে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি চার স্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও উপজেলায় মজুদ শেষ হয়ে গেলে প্রথমে পার্শ্ববর্তী উপজেলা, তারপর জেলা পর্যায় থেকে এবং প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ওষুধ সংরক্ষণাগার (সিএমএসডি) থেকে টিকা আনা হবে। জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী সংসদে বলেন, সারা দেশে চার স্তরেই পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রেবিস টিকার কোনও ঘাটতি হবে না।



