আড়াইহাজার উপজেলায় মৃত্যু নিবন্ধন ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ভার্বাল অটোপসি’ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়া সংঘটিত মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. জাহিদ, ডা. আরিফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভুঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ লিটন, প্রেসক্লাব সভাপতি মাসুম বিল্লাহ এবং আড়াইহাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ভার্বাল অটোপসি পদ্ধতি
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ভার্বাল অটোপসি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য গবেষণা পদ্ধতি। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো ব্যক্তি মারা গেলে প্রশিক্ষিত কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এতে মৃত ব্যক্তির উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এটি কোনো পুলিশি বা আইনি তদন্ত নয়; বরং সম্পূর্ণ গোপনীয়তার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি জনস্বাস্থ্যভিত্তিক কার্যক্রম।
পাইলট প্রকল্পের লক্ষ্য
পাইলট প্রকল্পের আওতায় আড়াইহাজার উপজেলায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত চাহিদা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রভাব
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, সঠিক মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
প্রসঙ্গত, দেশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।



