দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়ার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিশেষ করে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম হওয়ায় তারা দ্রুত পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন (অতিরিক্ত তাপজনিত ক্লান্তি) এবং হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
অভিভাবকদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তাপপ্রবাহের সময় শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ঘন ঘন পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় দেওয়া যেতে পারে। শিশুদের দীর্ঘ সময় রোদে খেলাধুলা বা বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত রাখতে হবে, বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে।
পোশাক ও পরিবেশের বিষয়ে সতর্কতা
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওয়াহিদুল হক এ সময় শিশুদের হালকা রঙের, ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করা উচিত। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে অপেক্ষাকৃত শীতল পরিবেশে রাখতে হবে।
উপসর্গ ও করণীয়
তিনি আরও বলেন, শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে, মাথা ঘোরা, বমি, অতিরিক্ত ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জ্বর বা অচেতন হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
খাদ্য ও অন্যান্য সাবধানতা
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাপপ্রবাহ চলাকালে শিশুদের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, শাকসবজি ও তরলজাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে শিশুদের কখনোই বন্ধ গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া যাবে না, কারণ এতে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।



