ঈদুল আজহায় হামের প্রাদুর্ভাব: হাসপাতালে কান্না আর শূন্যতা
ঈদুল আজহায় হামের প্রাদুর্ভাব: হাসপাতালে কান্না

সারা দেশে যখন ঈদুল আজহার আনন্দে মুখর চারপাশ, তখন অনেক পরিবারের কাছে এবারের ঈদ শুধুই কান্না, উদ্বেগ আর শূন্যতার নাম। কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন, আবার কেউ হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ শিশুর পাশে বসে কাটাচ্ছেন নির্ঘুম সময়। হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের ঈদের হাসি।

মৃত্যুর মিছিল থামছে না

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮২৫ জন। এর আগে বুধবার (২৭ মে) মারা যায় পাঁচজন, মঙ্গলবার (২৬ মে) ১০ জন এবং সোমবার (২৫ মে) ১৭ জন।

এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৭৭ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৮৫ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫৪ হাজার ১৮২ জন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঈদের দিন হাসপাতালে

ঈদের দিন রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। বাইরে যখন কোরবানির ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ, তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে উদ্বিগ্ন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস। ছোট ছোট শিশুরা হাসপাতালের বেডে শুয়ে ঈদ কাটাচ্ছে। কারও হাতে স্যালাইন, কেউ আবার অক্সিজেন সহায়তায় চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে থাকা কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানের অসুস্থতার কারণে এবার তাদের পরিবারে ঈদের কোনও আনন্দ নেই। নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো কিংবা ঈদের সব আয়োজন থেমে গেছে হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে। সন্তান সুস্থ হয়ে উঠবে—এই একটিই এখন তাদের একমাত্র প্রার্থনা। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও নতুন করে আরও দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আনন্দের এই ঈদের মধ্যেও কিছু পরিবারের ঈদ কাটছে হাসপাতালের শয্যায়, শঙ্কা, অশ্রু আর স্বজন হারানোর গভীর বেদনা নিয়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ