বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ঝড়ের তাণ্ডব
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় বুধবার সকালে আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছিঁড়ে গেছে তার, ফলে পুরো উপজেলা সকাল থেকেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
উপজেলার মেঘনা, কালাবদর, গজারিয়া, তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে। চর এককরিয়া, আলিমাবাদ, রায়পুরা, আন্ধারমানিক, ভাসানচর ও শ্রীপুর ইউনিয়নে গাছপালা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চর এককরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মকিম তালুকদার জানান, তার ইউনিয়নে ব্যাপক গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং ঘরবাড়ির ক্ষতির খবর আসছে, তবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
ঝড়ে বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল ৯টার দিকে প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। তীব্র বাতাসে টিনের ঘর উড়ে যায়, গাছ ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়। মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর চুনারচর গ্রামের হানিফ পোদ্দারের বাড়ির ওপর একটি বিশাল চাম্পল গাছ পড়ে। এতে ঘরের বারান্দা দুমড়েমুচড়ে যায়, তবে ঘরে থাকা তিন সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। হানিফ পোদ্দারের স্ত্রী বলেন, 'হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে দেখি বিশাল গাছটা ঘরের ওপর পড়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে হয়তো আমরা বাঁচতাম না। আল্লাহর রহমতে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।'
রাজনৈতিক কার্যালয় বিধ্বস্ত
চরগোপালপুর ইউনিয়নের মিটুয়া খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থিত বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে দোকানের টিন উড়ে গেছে এবং গাছ ভেঙে দোকান চাপা পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। কৃষিজমিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। ঝড়ে গাছ পড়ে একাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে এবং বহু খুঁটি উপড়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হওয়ায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা কঠিন। ঈদের আগে বিদ্যুৎ পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জনদুর্ভোগ
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। ঈদের কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।
ঝড়ের পর থেকে পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ঈদের আনন্দের বদলে বিদ্যুৎহীন অন্ধকার, গরম ও দুর্ভোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।



