রামেক হাসপাতালে হামের প্রকোপ, সাংবাদিকদের তথ্য নিতে বাধা
রামেক হাসপাতালে হামের প্রকোপ, সাংবাদিকদের তথ্য নিতে বাধা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, আবার অনেকেই ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল ৫টায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনুমতি ছাড়া রামেক হাসপাতালের ভেতরের ছবি বা তথ্য নিতে দেওয়া হচ্ছে না রাজশাহীর গণমাধ্যমকর্মীদের। অনুমতির জন্য পরিচালক ও উপপরিচালকের কক্ষে গেলে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ সময় এক সিনিয়র নার্সের সঙ্গে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের হাসপাতালের ৩০-বি ওয়ার্ডে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত নার্সের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘শংকর (রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস) স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ কিন্তু একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি। এ কারণে রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা বা ছবি তোলা ও ভিডিও করার অনুমতি পাওয়া যায়নি।

রোগী স্বজনদের অভিজ্ঞতা

তবে রামেক হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন রোগে ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজনদের দেখা মেলে। তাদের মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া একজন রোগীর অভিভাবককে পাওয়া গেলো। তার নাম রোজিনা খাতুন। তিনি এসেছেন নাটোর জেলার লালপুর এলাকা থেকে। রোজিনা বলেন, ‘আমার মেয়েটার প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর ছিল। আমরা সাধারণ জ্বর মনে করেছিলাম। পরে গায়ে ছোট ছোট লাল দানা উঠলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার জানান, এটি হাম রোগ। হাসপাতালে এসে দেখি অনেক শিশুই একই সমস্যায় ভর্তি আছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসকরা খুব ব্যস্ত থাকেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশুকে নিয়ে রাতে হাসপাতালে থাকা। বাচ্চা ঠিকমতো খেতে পারছে না, সারাক্ষণ কান্না করছে।’

বাইরে আরেকজন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। চারঘাট উপজেলার সেতারা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার কয়েকদিন ধরে জ্বর ছিল। পরে দেখি, গায়ে লাল দানা এবং কাশি। তখন হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার বলেছেন, এটা হাম রোগ। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় কষ্ট হচ্ছে। বেড পেতে সময় লেগেছে। ছোট বাচ্চা হওয়ায় সারাক্ষণ ভয় কাজ করছে। আমার মনে হয়, শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো দরকার। অনেক সময় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা

অন্যদিকে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও কেবিন নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পাশাপাশি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিতে হবে দুই বেলা রাউন্ড। মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে দেওয়া হয়েছে এমন নির্দেশনা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর/জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।