বড় ছেলে তাহসিন ভর্তি আইসিইউতে। অন্যদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছোট মেয়ে বিবি আয়েশাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে না পেরে তাকে নিয়ে পরিত্যক্ত সিঁড়ির মেঝেতে অপেক্ষায় আছেন বাবা বিল্লাল হোসেন। এই দৃশ্য দেখা গেছে আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে।
বাবা-মায়ের দুর্দশা
বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, পাঁচ দিন আগে ভোলার লালমোহন থেকে ছেলে তাহসিনকে নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা করান। সেখানে তার হামের উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরও বেড়ে যায়। ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়লে তিনি আরও দুটি হাসপাতাল ঘুরে ডিএনসিসি হাসপাতালে আসেন। সেখানে তাহসিনের হাম শনাক্ত হয় এবং অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দুদিন ধরে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে ছেলের পাশে উদ্বিগ্ন মা শারমিন বেগম অপেক্ষায় আছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, 'আমার দুই সন্তান, দুজনেরই নিউমোনিয়া। ছেলেটার অবস্থা খুব সিরিয়াস। মেয়েটার হাম নেই, তাই ওকে এখানে ভর্তি করাতে পারছি না। ওকে নিয়ে বাইরেই থাকছি।' সারা জীবনের জমানো টাকা ছেলের চিকিৎসায় শেষ করে তিনি এখন ৪ লাখ টাকার বেশি ঋণে আছেন। তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
আরেক শিশু আইসিইউতে
একই হাসপাতালে নোয়াখালী সদর থেকে আট মাস বয়সী নাতনি জান্নাত বেগমকে নিয়ে এসেছেন নানা আবদুর রব। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আসার পর আজ সকালে নাতনিকে কোলে করে আইসিইউতে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন শিশুটির মা রুনা বেগম। আবদুর রব জানান, প্রথমে নিউমোনিয়া হয়েছিল, পরে হাম ধরা পড়ে। টাকার অভাবে দ্রুত ঢাকায় আনতে পারেননি। টাকা জোগাড় করতে দেরি হওয়ায় শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হয়।
জান্নাতের নানা বলেন, 'কিছু টাকা জোগাড় করেছি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি ঢাকা চলে এসেছি। আসার পর ডাক্তাররা অক্সিজেন লাগিয়েছিলেন। আজ সকালে আইসিইউতে নিয়ে এসেছে। ভেতরে চিকিৎসা চলছে, জানি না কী হয়। অবস্থা খুব খারাপ।'
হাসপাতালের পরিস্থিতি
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসিফ হায়দার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের আইসিইউতে ৫১ শিশু ভর্তি রয়েছে।



