চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদী থেকে একটি ডলফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ অ্যান্ড ল্যাবরেটরির কর্মীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার সীমান্তবর্তী সিপাহির ঘাট এলাকা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত ডলফিনের বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে জোয়ারের পানিতে ভাসছিল মৃত ডলফিনটি। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় হালদা রিসার্চ অ্যান্ড ল্যাবরেটরির কর্মীরা সেটি ডাঙায় তুলে নদীর পাড়ে মাটিচাপা দেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ডলফিনটির ওজন ৯১ কেজি। দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৭ ফুট। মরদেহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে এটির মৃত্যু হয়েছে। ডলফিনটির দেহে ব্যাপকভাবে পচন ধরেছে।
উদ্বেগজনক মৃত্যুর হার
হালদা নদীসংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সাড়ে ছয় বছরে হালদা নদীতে অন্তত ৫১টি ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কেবল গত ১৪ মাসেই ৬টি ডলফিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ সেন্টার। হালদা–বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হালদার ডলফিন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত (অতি বিপন্ন প্রজাতি)। বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে এই প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি। এর মধ্যে শুধু হালদাতেই ছিল ১৭০টি। গত সাড়ে ছয় বছরে হালদায় ৫১টি ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন নদী ও প্রাণী–বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকদের মতামত
হালদা নদীবিষয়ক গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘গতকাল উদ্ধার হওয়া ডলফিনটির মুখ, পেট ও লেজ প্রায় পচে গেছে। ডলফিনটির সুরতহাল করে আইডিএফ হালদা প্রশিক্ষণ ও রিসার্চ সেন্টারে মাটিচাপা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে গবেষণার জন্য এটির দাঁত সংগ্রহ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হালদায় ডলফিনের মৃত্যুর হার খুবই উদ্বেগজনক। এভাবে একের পর এক ডলফিন মরে গেলে হালদা ডলফিনশূন্য হয়ে পড়বে, যা নদীর প্রজনন ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে।’



