রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরির বিরুদ্ধে স্কুলের এক অভিভাবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম মো. নাসির শেখ। তিনি উপজেলার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে দপ্তরির কাজে নিয়োজিত।
অভিযোগ ও তদন্ত
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক অভিযোগ দেওয়া হলে নাসিরকে সাময়িক বহিষ্কার ও বেতন বন্ধ রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গত ১৬ মে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৫ মার্চ দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে নাসির শেখ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তার ভিডিও ধারণ করেন এবং ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই প্রবাসী দম্পতির দুটি সন্তান ওই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। সেই সুবাদে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন নাম্বার নিয়ে দপ্তরি নাসির তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠলে দপ্তরি ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ সম্পর্কের জের ধরে তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে এবং আবাসিক হোটেলে রাতযাপন করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নাসির কৌশলে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন; কিন্তু প্রবাসীর স্ত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় দপ্তরি স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও কিছু বখাটের মাধ্যমে খারাপ ভিডিওগুলো নারীর প্রবাসী স্বামীসহ বিভিন্নজনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে পাঠান। এতে ওই নারীর সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়।
এছাড়াও ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে চাকরি পাওয়ার আগে এই গ্রামের এক মেয়েকে অপহরণ করারও অভিযোগ ছিল। অভিযোগপত্রে নাসিরকে তার চাকরি হতে বহিষ্কার এবং কঠিন শাস্তির দাবি করা হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য
আলাপকালে অভিযুক্ত নাসির শেখ বলেন, ঘটনা পুরোটা সত্যি নয়। আমরা একত্রে দুয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছি মাত্র। কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। বিষয়টি পারিবারিকভাবে বসে মীমাংসা করেছি। তবে এলাকার লোকজন অভিযোগ দেওয়ায় স্কুল থেকে আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করে রেখেছে- এখন আমি স্কুলে যাই না। আমাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোদের আমি দেখে নেব।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান
নবুওছিমদ্দিনপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. হালিম প্রামাণিক বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে নাসিরের কাছ থেকে সাময়িকভাবে স্কুলের দায়িত্ব বুঝে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। তিনি বর্তমানে স্কুলের কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে দিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করিয়েছি। এরপর তিন দিন আগে দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির আগেই তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



