মতলব উত্তর উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ফোন অকার্যকর
মতলব উত্তর উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ফোন অকার্যকর

মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশের মতো চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাতেও মুঠোফোনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল। তবে ৪ লক্ষাধিক জনবসতির এই উপজেলায় প্রচার-প্রচারণার অভাবে এই সেবা সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। শুধু তাই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস নিজেই জানেন না যে তার হাসপাতালে এই সেবা কার্যক্রমটি চালু রয়েছে! উল্টো তিনি জানান, তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঠোফোনে চিকিৎসাসেবা চালু করা গেলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হতো।

প্রচারণার অভাবে অজানা সেবা

কোনো রকম প্রচারণা না থাকায় উপজেলা সদরের ঘনিয়ারপাড় ও ছেংগারচর এলাকা তো বটেই, উপজেলার চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনসাধারণের কাছে এই সেবা কার্যক্রমটি এখনো সম্পূর্ণ অজানা। ২০০৯ সালের মে থেকে সরকার দেশের ৪১৮টি জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করে। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হওয়ার পর থেকেই এই কার্যক্রমটি সংযুক্ত হয় বলে জানান হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য স্টাফরা।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালের মে মাস থেকে সরকার দেশের ৪১৮টি জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুঠোফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হওয়ার পর থেকেই এই কার্যক্রম এর সঙ্গে যুক্ত হয়। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে বিশেষ মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, একজন চিকিৎসকের দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ওই মুঠোফোনের মাধ্যমে জনগণকে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা। ফোন নম্বরটি জনসাধারণের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন ও প্রচারের সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণকে নম্বরটি জানানোর কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে মতলব উত্তরের এই কার্যক্রমটি এক প্রকার অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফোনের অপব্যবহার

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্যসেবার বদলে ফোনটি মূলত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে মুঠোফোনটি দেওয়া হয়েছে, সেটির নম্বর ০১৭৩০-৩২৪৮৩৫। নিয়ম অনুযায়ী এটি ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে থাকার কথা এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়ার কথা।

জনগণের অভিমত

সরেজমিনে উপজেলার চরাঞ্চল, ঘনিয়ারপাড়, ছেংগারচর, ফরাজীকান্দি, একলাশপুর, মোহনপুর, ষাটনল ও বাগানবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিংহভাগ মানুষেরই মুঠোফোনের এই সেবা সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল গনি তপাদার জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যদি উপজেলা হাসপাতাল থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া যেত, তবে তা অত্যন্ত ভালো হতো। কিন্তু এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা হাসপাতালে আছে কিনা, তা তিনি জানেন না। ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সি জানান, উপজেলা সরকারি হাসপাতালে যদি নির্দিষ্ট কোনো মোবাইল নম্বর থাকত—যেখানে রাত-বিরাতেও স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া যায়, তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য খুব উপকার হতো। কিন্তু এমন কোনো নম্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকার।

পৌরসভার বেশ কয়েকজন সচেতন নাগরিকও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা পৌরসভার বাসিন্দা হয়েই এই সেবা সম্পর্কে জানি না, সেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ জানবে কী করে? এই নম্বরের ব্যাপক প্রচার হওয়া জরুরি।' সরেজমিনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিলে জানা যায়, মুঠোফোনের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টার খাতা থাকার কথা থাকলেও কর্তব্যরত কেউ তা বের করে দেখাতে পারেননি। হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের সাথে কথা হলে তারা জানান, জরুরি বিভাগে ডিউটি করার সময় মুঠোফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ নেওয়ার জন্য কোনো সাধারণ মানুষের ফোন তারা কখনো পাননি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

এই বিষয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, চাঁদপুরের সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে এই মুঠোফোন কার্যক্রমটি চালু রয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের অত্যন্ত চমৎকার একটি ব্যবস্থাপনা। তবে মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।