অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু ভয়াবহ হারে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এমপির প্রশ্ন ও মন্ত্রীর জবাব

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন প্রশ্নে জানতে চান, দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে কিনা এবং জীবাণু শনাক্তকরণ কিট তৈরির উদ্যোগ আছে কিনা। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, এটি সত্য যে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের কারণ

মন্ত্রী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের জন্য তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন: অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের গৃহীত উদ্যোগ

সরকার জীবাণু শনাক্তকরণ এবং এএমআর নির্ণয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন এএমআর) বাস্তবায়ন এবং ওয়ান হেলথ পদ্ধতির মাধ্যমে মানব, প্রাণী ও পরিবেশ খাতে সমন্বিত কার্যক্রম; জাতীয় এএমআর সার্ভেইলেন্স (নজরদারি) কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণ; দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও উন্নয়ন; জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংবেদনশীলতা পরীক্ষা (কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট) পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি; পরীক্ষাগারে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ; ল্যাবরেটরি জনবলের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন; সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন।

গবেষণা ও জনসচেতনতা

এছাড়া, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রবণতা, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিরূপণের জন্য সরকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-প্রতিরোধী জীবাণুর শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।