সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও রুপনা চাকমাদের প্রথম কোচ শান্তিমনি চাকমা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকে এখন চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অসুস্থতার ঘটনা
শান্তিমনি চাকমার পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাঙামাটির ঘাগড়া কলেজ মাঠে নারী ফুটবলারদের অনুশীলন করাতে গিয়েছিলেন তিনি। মাঠের পাশের একটি দোকানে বসে তখন তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাঁকে প্রথমে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম নগরে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা ও অবস্থা
শান্তিমনি চাকমার বড় ভাই শশী চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ইসিজি করার পর চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদযন্ত্রে জটিলতা শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় তাঁকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে তাঁকে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে শশী চাকমা জানান, শান্তিমনির হৃদযন্ত্রের দুটি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তনালি দুটি সচল করা হয়েছে। তিনি এখনো পর্যবেক্ষণে আছেন।
ফুটবল উন্নয়নে অবদান
দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটির ঘাগড়া এলাকায় নারী ফুটবল উন্নয়নে কাজ করছেন শান্তিমনি চাকমা। তিনি ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, রুপনা চাকমাসহ পার্বত্য অঞ্চলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার তাঁর কাছেই প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট দিয়ে তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।
কাউখালী উপজেলার মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীর সেন চাকমা। এ বিদ্যালয়েই ঋতুপর্ণা চাকমা পড়তেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বীর সেন চাকমা বলেন, ‘শান্তিমনির পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আজ তাঁর এই দুর্দিনে সব ক্রীড়ামোদী ও হিতাকাঙ্ক্ষীর নিকট সার্বিক সহযোগিতা এবং প্রার্থনার জন্য দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করছি।’



