অ্যাসপিরিন ‘রক্ত পাতলা করার’ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। এটি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে এবং হার্টের রক্তনালিতে ব্লক হয়ে হওয়া হৃদরোগের চিকিৎসায় কার্যকর। তবে এই ওষুধটি সবার জন্য নয়; বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস নেই, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অ্যাসপিরিন কাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী?
যাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে, স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়েছে, বাইপাস বা ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে, বা মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক হয়েছে—তাদের জন্য অ্যাসপিরিন জীবন রক্ষাকারী। এসব রোগীর ক্ষেত্রে নতুন করে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধে আজীবন স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
প্রাথমিক প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন: উপকার সীমিত, ঝুঁকি বেশি
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক প্রতিরোধে অ্যাসপিরিনের ব্যবহারে উপকার সীমিত, বরং ঝুঁকি বেশি। যাদের হৃদরোগ বা স্ট্রোক হয়নি, তারা কেবল বয়স হয়েছে বলে অ্যাসপিরিন খেলে হৃদরোগ বা স্ট্রোক কমেনি, বরং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়েছে। যাদের পেটে আলসার, আগে রক্তক্ষরণের ইতিহাস, কিডনির সমস্যা বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের রোগীদের অ্যাসপিরিন দেওয়া নিষেধ।
বয়সভিত্তিক পরামর্শ
৭০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি যাদের আগে হৃদরোগ বা স্ট্রোক হয়নি, তাদের নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকির কিছু রোগীর ক্ষেত্রে যদি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কম থাকে—তবে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসপিরিন বিবেচনা করা যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে প্রতিদিন অ্যাসপিরিন শুরু করবেন না। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক হলে বা স্টেন্ট পরা থাকলে, বাইপাস বা ওপেন হার্ট সার্জারি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। পেটে আলসার, আগে রক্তক্ষরণ বা কিডনির সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানিয়ে নিন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার খারাপ কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন ঝুঁকির উপস্থিতিতে হৃদরোগ ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক প্রতিরোধে অ্যাসপিরিনের ব্যবহার একটি সমন্বিত ও ব্যক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্তের বিষয়।



