প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়: আইনমন্ত্রী
প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়: আইনমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, বিচারকাজ চলার সময় সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ‘বার্গিনিং বা ইনফ্লুয়েন্সে’ যাওয়া ঠিক হবে না।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) উনার মেধা, প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আজ সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এ কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনালে আইনমন্ত্রীর সফর

আজ বিকেল তিনটায় ট্রাইব্যুনালে আসেন আসাদুজ্জামান। আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিকের প্রশ্ন

ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে একটা সমস্যায় পড়েছি। সেটা হলো যে প্রধান বিচারপতির এজলাসে আমরা প্রবেশ করতে পারছি না। আমাদের সংবাদ প্রকাশে এতে বিঘ্ন হচ্ছে। আপনি গতকাল হয়তো দেখে থাকতে পারেন, আমরা একটা প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই উনার একগুঁয়েমির কাছে পেরে উঠছি না। তো সে ক্ষেত্রে আপনার কাছে আমাদের বিনীত আবেদন থাকবে যে আপনি বিষয়টা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন কি না। আমাদের এজলাসে প্রবেশ আগের মতো নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে আপনি পদক্ষেপ নেবেন কি না?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনমন্ত্রীর জবাব

জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রথম কথা হলো প্রধান বিচারপতি একগুঁয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এটা আমি একমত না আপনার সঙ্গে। প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এটা বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। উনি একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন নিয়েছেন, তার রিজনিংটা (কারণ) উনি ভালো জানেন। দ্বিতীয়ত হলো বিষয়টা আমার দৃষ্টিতে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতেও এসেছেন। প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত উনি উনার মেধা, প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি। …কিন্তু এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইনমন্ত্রী হিসেবে উনার সঙ্গে বার্গিনিংয়ে যাওয়া বা কোনো ইনফ্লুয়েন্সে যাওয়াটা আমি মনে করছি যে ঠিক হবে না।’

প্রসিকিউশন প্রসঙ্গ

আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি সমস্যা শুনেছেন বললেন। তো আমরা যদি একটু বলি যে রিসেন্টলি (সম্প্রতি) অনেক বিষয়েই এই প্রসিকিউশন ঘিরে কথাবার্তা উঠেছে। যেমন টেলিফোনে কথোপকথন বা কারও রুমে ডাকা—বিভিন্ন রকম প্রসঙ্গ। এগুলো তো আপনি নিশ্চয়ই বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব কটি বিষয়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। এতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রসিকিউশন থেকে কাউকে...কারও বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ ইতিপূর্বে নেওয়া হয়েছে বলে জানি না। বাট আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং এটা চলমান থাকবে।’