খুলনায় ড্যাবের মানববন্ধন: বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নেতা পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার তীব্র প্রতিবাদ
খুলনা নগরীতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) একটি জোরালো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবার সকালে শহীদ ডা. মিলন চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা মো. রফিকুল হককে 'মব সৃষ্টির মাধ্যমে' অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
তিন দফা দাবি ও কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকরা তিন দফা দাবি পেশ করেছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন না হলে ২১ এপ্রিলের পর থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবা ছাড়া সম্পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খুলনা জেলা ড্যাবের সভাপতি মো. রফিকুল হকের সভাপতিত্বে এবং খুলনা মহানগর ড্যাবের সভাপতি মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
বক্তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ড্যাব নেতা মো. আকরামুজ্জামান, এস এম গোলাম আজম, খুলনা ড্যাব নেতা মো. ইনামুল কবীর, এস এম মাসুদুর রহমান লিমন, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রদীপ কুমার দেবনাথ এবং চিকিৎসক হুমায়ারা মুসলিমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
চিকিৎসক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন বিএনপি নেতা চিকিৎসক রফিকুল হককে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যায়িত করে গালাগাল দেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং পরে ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।
চিকিৎসক নেতারা এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, একটি চলমান ট্রাস্টি বোর্ডকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এভাবে ভেঙে দেওয়া আইনসম্মত নয়। নতুন কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
উত্থাপিত দাবিসমূহের বিস্তারিত
মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
- খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্যের সামনে 'মব সৃষ্টি করে' ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতিকে অপদস্থ করা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর কায়েসেদ আলী, সাবেক সহসভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন, বর্তমান সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ হোসেনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া।
- রফিকুল হককে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করা এবং ভবিষ্যতে ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে খুলনার চিকিৎসকেরা একযোগে জরুরি সেবা ছাড়া কর্মবিরতি পালন করবেন এবং পরবর্তীতে সারা দেশে এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ড্যাবের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা চিকিৎসা সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় এবং এর দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।



