হাম চিকিৎসায় শিশু হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দ অপ্রতুল: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
হামের চিকিৎসায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরকারি বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালের আর্থিক সংকট ও সরকারি সহায়তা
জামায়াত আমির বলেন, এই হাসপাতালটি সরকারি নয়, এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সরকার আগে প্রতি বছর ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতো, কিন্তু এবার মাত্র ২৮ কোটি টাকা দিচ্ছে। এই ২৮ কোটির মধ্যে এ পর্যন্ত তারা প্রথম কোয়ার্টারে মাত্র ৭ কোটি টাকা পেয়েছেন, বাকি টাকা হয়তো পরে পাবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অপ্রতুল বরাদ্দে হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
হাসপাতালে মোট ৭০০টি শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ২৫০টি শয্যা বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে। বাকি শয্যাগুলোতে রোগীদের সমস্ত খরচ নিজেদের বহন করতে হয়। এই ব্যবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সংস্থান সীমিত হওয়ায় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও হাম পরিস্থিতি
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা বুঝতে পেরেছি, এখানে আরও অনেক গুরুত্ব দেওয়া দরকার সরকারের।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে হাম নিয়ে দেশবাসী যে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে, তা বোঝার জন্যই মূলত তারা হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, "এটি বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশেষায়িত ও নিবেদিত শিশু হাসপাতাল। সারা দেশ থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই চাপ সামলাতে পারছেন না। অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন, এবং তারা কোথায় যাবেন তা বলতে পারছেন না।"
আইসিইউ স্থাপন ও শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান
হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থাপন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো জরুরি এবং সেই সুযোগও রয়েছে। তিনি প্রস্তাব দেন, "যদি শিশু হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২ হাজার করা হয়, তাহলে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।"
এ সময় তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে শিশু হাসপাতালের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।



