স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন: খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকার ভাতিজির খোঁজখবর
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমের অসুস্থ ভাতিজিকে দেখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এই পরিদর্শনে তিনি রোগীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তা ও ঘটনার পটভূমি
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক আশরাফুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফাতেমা বেগমের ভাতিজি সীমা (৩২) বৃহস্পতিবার বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করেন। এর পর থেকে মা ও শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। শুক্রবার দুজনকে ঢাকায় এনে নবজাতককে আগারগাঁওয়ের শিশু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এবং মাকে ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করানো হয়।
মন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিদর্শন কার্যক্রম
হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া তিনি দলীয় এক রোগীসহ আরও এক রোগীকে দেখতে যান এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এরপর তিনি হাসপাতালের কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শন করেন, যাতে সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
মন্ত্রীর বক্তব্য ও জনস্বাস্থ্য বার্তা
পরিদর্শন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রত্যেক মেডিক্যালের পরিচালকদের আগে থেকেই বলা আছে, যেকোনো রোগী ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন) হলে আমাদের জানাতে। যেন ঢাকায় এনে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি। সেটার অংশ হিসেবেই এই রোগীকে এখানে আনা হয়েছে। একটা রোগীর জন্য কিছু করতে পারলেও মানুষ বলবে, “উই আর ডুয়িং সামথিং (আমরা কিছু করতে পেরেছি)”।' এই বক্তব্যে তিনি সরকারের জনস্বাস্থ্য সেবার প্রতিশ্রুতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এই ঘটনাটি ঢাকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগটি জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।



