ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ: মরদেহ দাহ না দাফন, উত্তেজনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ
ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধ: মরদেহ দাহ না দাফন, উত্তেজনা

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জটিলতা: মরদেহ দাহ না দাফন নিয়ে উত্তেজনা

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তীব্র বিরোধ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ দাহ করা হবে, না দাফন করা হবে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কানু থেকে কাজী সোহাগ: ধর্ম পরিবর্তনের ইতিহাস

নিহত ব্যক্তি সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩), যিনি পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে ছিলেন। প্রায় ২১ বছর আগে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তিনি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই ধর্মান্তরের পর তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেঁতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের আবদুর রহমান (৯) নামের একটি ছেলে রয়েছে।

মৃত্যু ও দাহ করার চেষ্টা

গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তাঁর মা রিতা রানী পোদ্দার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে গতকাল দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালীমন্দির–সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য শ্মশানের চিতায় তোলা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রী-সন্তানের প্রতিবাদ ও উত্তেজনা

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আবদুর রহমান তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের দাবি তুলে ধরেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মায়ের দাবি ও দালিলিক প্রমাণের অভাব

মৃত ব্যক্তির মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন যে, তাঁর ছেলে আগে হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং সেই বিবেচনায় দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তিনি তাঁর ছেলের পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, 'ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তান প্রশ্ন তুলেছেন, যার কারণে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, 'ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের ভুল–বোঝাবুঝির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

এই ঘটনা ধর্মীয় পরিচয় ও আইনি জটিলতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।