কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ে ছাত্রী ধর্ষণ: পিয়ন গ্রেপ্তার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ে ছাত্রী ধর্ষণ: পিয়ন গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ে ছাত্রী ধর্ষণ: পিয়ন গ্রেপ্তার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনায় বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার

শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পিয়ন হামিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৬। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং শনিবার পিয়ন হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত পিয়নকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুল ইসলামের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসময় পিয়ন দাবি করেন, বিদ্যালয়ে কেউ নেই এবং তিনি চাবি দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পিয়ন চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় তার আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।

ছাত্রীর উদ্ধার ও চিকিৎসা

বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে স্থানীয়রা ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন এবং হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ে এমন জঘন্য অপরাধের ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। দ্রুত পিয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আমরা নিশ্চিত করছি যে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।"

এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী ও নজরদারি ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।