কলেজছাত্রী সামিয়ার মৃত্যু: মায়ের কান্নায় ভেঙে পড়া, পুলিশের তদন্তে অসংগতি
কলেজছাত্রী সামিয়ার মৃত্যু: মায়ের কান্না, পুলিশ তদন্ত

কলেজছাত্রী সামিয়ার মৃত্যু: মায়ের কান্নায় ভেঙে পড়া, পুলিশের তদন্তে অসংগতি

চট্টগ্রাম নগরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রী সামিয়া জাহানের মা নাসিমা সুলতানা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে সামিয়া মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

মায়ের বেদনাদায়ক স্মৃতি

নাসিমা সুলতানা বলেন, "মেয়েটা আমার কলিজার টুকরা ছিল। আমার মুখের হাসি ছিল। কিন্তু এখন সব শেষ। ওরা আমার সঙ্গে কেন এমনটা করল? মেয়েটাকে জোর করে দূরে নিয়ে গেছে। কারও কিছু হলো না, কিন্তু মেয়েটা মারা গেল। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সামিয়া তাঁর বড় ভাইয়ের আসন্ন বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য নাচ প্র্যাকটিস করছিলেন এবং দাওয়াত কার্ডে নাম লিখছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামিয়া একটি প্রাইভেট কারে করে পতেঙ্গা গিয়েছিলেন, সাইদুল আলম (২৩) গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ফেরার পথে গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং ফকিরহাট অংশে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা খায়, পরে রেলিংয়ে আঘাত করে। এতে সামিয়া মাথায় আঘাত পান এবং মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর তাঁর মরদেহ সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও অসংগতি

পুলিশ জানিয়েছে যে গাড়িচালক সাইদুল আলমের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। তিনি কাতারপ্রবাসী, কিন্তু কখন দেশে ফিরেছেন তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন—কখনো তিন মাস, কখনো দুই মাস আগে বলে উল্লেখ করছেন। বন্দর থানার উপপরিদর্শক এরশাদ মিয়া বলেন, পরিবারের সদস্যরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অবস্থা

সামিয়া নগরের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজে অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক পড়তেন। তাঁর মা নাসিমা সুলতানা একজন গৃহিণী, যার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সামিয়ার বাবা মো. আবু তালেব পাটোয়ারী এখন অবসরে। পরিবারটি চট্টগ্রাম নগরের রাহাত্তারপুল এলাকায় থাকে, মূল বাড়ি চাঁদপুরে।

ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগে অপমৃত্যুর একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে এবং পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি করছে।