নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের সন্দেহে হত্যার অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার সন্দেহ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের সন্দেহে হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিতালী মার্কেটের ৫ নম্বর ভবনে বিপ্লব শেখ (২৬) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলে, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত বিপ্লব শেখ মুন্সিগঞ্জের সদর থানাধীন রনছ এলাকার খোরশেদ শেখের ছেলে ছিলেন এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালী মার্কেটের ৫ নম্বর ভবনের চারতলায় আসাদ মিয়ার মিনি গার্মেন্টস কারখানায় সেলাইয়ের কাজ করতেন।

মৃত্যুর ঘটনা ও পরিবারের সন্দেহ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভবনের চতুর্থ তলায় বিপ্লব শেখ স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে তার বোনকে কারখানা থেকে ফোন করে জানানো হয়। সংবাদ পেয়ে বোন ঘটনাস্থলে এসে লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে মুন্সিগঞ্জের নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে, দাফন-কাফনের আগে লাশ গোসল করানোর সময় পরিবারের সদস্যরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান, যা তাদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে।

এই সন্দেহের ভিত্তিতে তারা স্থানীয় থানায় অবগত করলে, মুন্সিগঞ্জ সদর থানা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হয়। দুই থানার সমন্বয়ে রাত পৌনে ১০টায় লাশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহতের বড় বোন সীমা আক্তার অভিযোগ তুলে বলেন, "আমার ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে কারখানার কাটিং মাস্টার ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছে। প্রথমে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে বললেও পরে আবার ওয়াশরুমে পড়ে মৃত্যু হয় বলে জানান।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও পুলিশের বক্তব্য

সীমা আক্তার আরও বলেন, "আমাদের খবর দেওয়া হলে আমরা এখানে এসে সাইনবোর্ডের প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। কারখানার কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে লাশ বুঝিয়ে গাড়িতে তুলে দেন, কিন্তু পরে আমরা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ করি।" তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় হত্যার ইঙ্গিত রয়েছে এবং সঠিক তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হক জানান, "আমরা পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বলা যাবে এটা স্বাভাবিক হত্যা, না কি অন্য কিছু। তাছাড়া আমরা ঐ ব্যক্তির স্বজনদের বলেছি, আপনারা মামলা দিলে আমরা মামলা নিয়ে সঠিক তদন্ত করব।" পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে, যা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও গার্মেন্টস শিল্পের কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটি এখনও রহস্যে ঘেরা, এবং পুলিশের তদন্ত এগিয়ে চলছে।