ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতি মৃত্যু মামলার মীমাংসা: হাসপাতালকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা
প্রসূতি মৃত্যু মামলার মীমাংসা: হাসপাতালকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রসূতি মৃত্যু মামলার অবসান: হাসপাতালকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিত্সার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাটি অবশেষে সামাজিক বিচার সালিশির মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলা সদরের সৈনিক হোটেলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়। সালিশি সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক দণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সালিশি সভার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত ও বণ্টন পরিকল্পনা

সালিশি সভার সভাপতি, পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘সালিসি সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে জমা করা হবে, যা শিশুর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’ বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে সমান দেড় লাখ করে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, একটি আকর্ষণীয় দিক হলো যে প্রসূতির স্বামীর বাড়ির লোকজন জরিমানার দেড় লাখ টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, যা তাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা

সালিশি সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, এই মীমাংসার পর কোনো পক্ষই আর এ নিয়ে মামলা করতে পারবে না, যা ঘটনার স্থায়ী সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করে। এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘একজন প্রসূতির মৃত্যুর পাঁচ দিন পরও এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় মামলা করেনি, এটি আমার কাছে আশ্চর্যজনক লাগছে। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ অবশ্যই নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে।’ এই মন্তব্য আইনি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যত দিক নির্দেশ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ও হাসপাতালের দায়িত্ব

এদিকে, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল দিনভর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে। জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি প্রসূতি মৃত্যুর সঙ্গে কর্তব্যরত ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা অবহেলা পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই তদন্ত চিকিত্সা সেবার মান নিশ্চিতকরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা যায়নি, যা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু অনিশ্চয়তা রেখেছে।

ঘটনার পটভূমি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

প্রসঙ্গত, গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ঐ প্রসূতির রাতেই অস্ত্রোপচার (সিজার) করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠে যে, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতালেই মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা পরদিন রবিবার সকালে হাসপাতালটিতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষোভ ও হতাশার প্রকাশ ছিল।

এই ঘটনা চিকিত্সা সেবার গুণগত মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। সালিশি সভার মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ায় এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে তদন্ত কমিটির ফলাফল ভবিষ্যতের জন্য নির্দেশিকা প্রদান করবে।