ময়মনসিংহে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮০ শিশু
ময়মনসিংহে হামে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৮০ শিশু চিকিৎসাধীন

ময়মনসিংহে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮০ শিশু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত ৯ মাসের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট ৭ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা স্বাস্থ্য সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করছে।

হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মৃত শিশুটি শেরপুরের নকলা উপজেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৮ মার্চ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটির হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্ট ছিল, যা তার অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামের প্রাদুর্ভাবের সামগ্রিক চিত্র

গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে মোট ২৮০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮৯ জন, যা কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১৯টি শিশু, তবে নতুন ভর্তির সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০২টি শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ‘ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে’ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ৯৭টি রিপোর্টের মধ্যে ৭০ শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা রোগের বিস্তার সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, তিনটি বিশেষ মেডিকেল টিম দ্বারা সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।