দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই কার্যকরভাবে কাজ শুরু করেছে।
বিশেষ ওয়ার্ডের বিস্তারিত
বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান জানিয়েছেন, সি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় ৮ শয্যার একটি হাম ওয়ার্ড চালু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ওয়ার্ডটি স্থাপন করা হলেও, রোগীর চাহিদা অনুযায়ী এটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে ৪ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলছে।
স্ক্রিনিং ও মনিটরিং ব্যবস্থা
হাম রোগ শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য বিএমইউতে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। এই সেন্টারটি ২নং বহির্বিভাগে অবস্থিত, যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে হাম পরীক্ষার সুবিধা প্রদান করবে। পাশাপাশি, হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলটি রোগের বিস্তার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিদর্শন
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান ও উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিশেষ ওয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন। তারা ওয়ার্ডের কার্যক্রম ও রোগীদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা প্রকাশ করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিএমইউ আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এফ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় একটি সম্প্রসারিত আইসোলেটেড ওয়ার্ড স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে আরও রোগী গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াবে। এই উদ্যোগগুলি হাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বোপরি, বিএমইউর এই পদক্ষেপগুলি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে।



