কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাবে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা চারে পৌঁছাল
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টা থেকে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মৃত শিশুদের পরিচয় ও চিকিৎসার বিবরণ
মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হলো আট মাস বয়সী ইব্রাহিম, যিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে। তিনি শুক্রবার বিকেলে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, ইব্রাহিম শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে।
অন্য শিশুটি হলো কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক এলাকার মমিনুর রহমানের পাঁচ মাস ২০ দিন বয়সী মেয়ে আইজা। তিনি গত ৩০ মার্চ থেকে হাম ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আইজার অবস্থা গুরুতর ছিল এবং দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
জেলায় হামের বর্তমান পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২০ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২০ জন রোগীর হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে ৫-৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোরে আফরান নামে আট মাস বয়সী আরও এক শিশু মারা যায়, যা এই প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা নির্দেশ করে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হামের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "আমরা রোগীদের চিকিৎসা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা জোরদার করছি, কিন্তু জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এই ঘটনা কুষ্টিয়া জেলায় হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর উপর জোর দিচ্ছেন:
- হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- সম্প্রদায়ভিত্তিক টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
- জনগণকে হামের লক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করতে প্রচারাভিযান চালানো।
এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



