ময়মনসিংহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্র ও বৃদ্ধের মৃত্যু, বাঁচাতে গিয়ে আহত আরেকজন
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ শুক্রবার বিকেলে গফরগাঁও উপজেলার খাড়ুয়া বড়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
মৃত ব্যক্তিরা হলেন গফরগাঁওয়ের রাওনা ইউনিয়নের খাড়ুয়া বড়াইল গ্রামের মো. সাকিব (১৩) ও একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সান্দিয়াইন গ্রামের আব্দুল জব্বার (৭০)। সাকিব বড়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আহত ব্যক্তি শামসুল হক একই গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাড়ুয়া বড়াইল গ্রামের শামসুল হকের পুরোনো একটি টিনশেড ঘর মেরামত করছিলেন তাঁর ভাগনে সাকিব ও ভগ্নিপতি আবদুল জব্বার। ঘরের একটি টিনের বেড়া বাড়ির পাশে তৈরি করে তাঁরা ঘরে লাগানোর চেষ্টা করছিলেন।
এ সময় ওই ঘরের বিদ্যুতের তার টিনের নতুন বেড়ায় লেগে দুজনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। শামসুল হক দেখতে পেয়ে তাদের বাঁচাতে আসেন। তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তিনজনকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাতুল বালা বিশ্বাস বলেন, "হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই সাকিব ও আবদুল জব্বার মারা গেছেন। আহত শামসুল হককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।"
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
সতর্কতা ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় শোকাহত ও উদ্বিগ্ন। তারা বিদ্যুৎ সংযোগের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো ঘর মেরামতের সময় বিদ্যুতের তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



