লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহে যুবক নিহত, পুলিশের অভিযান চলছে
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহে যুবক নিহত

লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে যুবক নিহত, পুলিশের অভিযান

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবক বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে রংপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকতারুজ্জামান (২৮) নামে এই যুবকের মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আকতারুজ্জামান ছিলেন ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তার চাচা রমজান আলীর ছেলে শাহিনুর ইসলাম এবং আব্দুল মতিন নামে আরেকজন ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত আকতারুজ্জামানের বাড়ির উঠানে মনিরুজ্জামানের ছেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে আকতারুজ্জামান তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মনিরুজ্জামান, শাহিনুর ইসলাম এবং আব্দুল মতিন অতর্কিতভাবে আকতারুজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

স্থানীয়রা আহত আকতারুজ্জামানকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে রংপুর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনারুল হক বলেন, "অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়েছিল। তাই আমরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপিলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।"

দুর্ভাগ্যবশত, সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকতারুজ্জামানের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ রংপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

হাতীবান্ধা থানার ওসি রমজান আলী ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "খবর পেয়ে আমি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছি। স্থানীয়দের তথ্য এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আব্দুল মতিন নামে একজনকে আটক করেছি।" তিনি আরও জানান, তদন্তপূর্বক এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি এবং সামাজিক অস্থিরতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ আশা জাগালেও, নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।