ঝিনাইদহে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিলা খাতুন (২২) এর স্বামী আত্মহত্যার দাবি করলেও শিলার বাবা ও স্বজনরা এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করছেন।
মৃত্যুর পেছনের ঘটনা
স্থানীয় সূত্র এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের আব্দুল আলিমের সঙ্গে শিলা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিলাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতের স্বজনদের মতে, বৃহস্পতিবারও তাকে মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
স্বামী পরিবারের বক্তব্য
অন্যদিকে, নিহতের স্বামীর পরিবার জানিয়েছে, শিলা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়ে উঠেছে।
হাসপাতাল চত্বরে সংঘর্ষ
শিলা খাতুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়, যা সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শান্তি বজায় রাখে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জিল্লাল হোসেন বলেন, "আমরা কালীগঞ্জ হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং অনেকেই ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যা ঘটনার সত্যতা উন্মোচনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



