ভোলার বোরহানউদ্দিনে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের হত্যার অভিযোগ
বোরহানউদ্দিনে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবার হত্যার অভিযোগ করছে

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হ্যাঁপি আক্তার (২৫) বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেকের মেয়ে। বুধবার (০১ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মানিকারহাট বাজার সংলগ্ন রাড়ি বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক পটভূমি

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়মানিকা ২নং ওয়ার্ডের রাড়ি বাড়ির শাহজাহানের ছেলে লিমনের সঙ্গে হ্যাঁপি আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী লিমন ঢাকায় একটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং স্ত্রী হ্যাঁপিকে নিয়ে বাবু বাজার কদমতলী এলাকায় বসবাস করতেন।

সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ঈদের ছুটি শেষে লিমন ঢাকায় ফিরে গেলেও হ্যাঁপি তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার তার স্বামীর কাছে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে এরই মধ্যে বুধবার হ্যাঁপির ঝুলন্ত মরদেহ তার শ্বশুরবাড়ির শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। হ্যাঁপির বাবা আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, "আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন, আবার কেউ পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছেন। হ্যাঁপির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার বাড়ির এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই বছরের শিশু সন্তানকে রেখে তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল তৈরি করে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, "প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।