ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি বাড়ছে: গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ নতুন রোগী
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি বাড়ছে

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি বাড়ছে: গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ নতুন রোগী

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে আরও ২৬ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগের শরীরে হাম ছাড়াও জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা রয়েছে। একই সময়ে, ১০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাম শনাক্তের পরিসংখ্যান ও ভর্তি পরিস্থিতি

হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ৯৪ জন শিশু ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে, হাসপাতালের ৬৪ শয্যা বিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭৯ শিশু ভর্তি রয়েছে, যাদের চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের বয়স ও টিকার অবস্থা

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, যাদের হামের টিকা নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ এক ডোজ টিকা পেয়েছে এবং আরও ১০ শতাংশ দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছে। এই তথ্য টিকা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও পরামর্শ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মাওলা বলেন, "জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে সংক্রমিত রোগীদের থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।" তিনি হাম সংক্রমণ রোধে সকলের সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোগীর আগমন ও ব্যবস্থাপনা

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শিশু বিভাগে কয়েকজন শিশু ভর্তি থাকলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। রোগীরা নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে, যা আঞ্চলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।